Wednesday, June 13, 2012

ইসলাম বনাম হাতাশা - ৩

ডা. হালিম শাখতার বলেছেন, ‘যাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে, তারা অত্যধিক ভাবপ্রবণ হয়ে থাকে এবং এ জন্য সামান্য বিপদ আপদে তারা দুঃখ ভোগ করে । এ সমস্ত দুঃখের স্মৃতি তাদের অবচেতন মনে থেকে যায় এবং তাদের কাজ, কথা ও বিচারশক্তিকে প্রভাবিত করে । অতি শিগগিরই তারা হতাশাচ্ছন্ন ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে । তাদের এ দুর্দশার পেছনে কীসব কারণ রয়েছে তাও তারা বুঝতে পারে  না। যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিসমূহ, আমাদের অনুভূতির সম্পূর্ণ ঊর্ধে্ব তাদের লুকিয়ে রাখে এবং সহজে আমাদের কাছে তা ধারা দেয় না । অন্য কথায় বলতে গেলে মানুষের জন্য এটা স্বাভাবিক যে, মানুষ এসব যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিকে পরিহার করতে পারে এবং তাদের মন থোকে এসবকে উপড়ে ফেলতে পারে । এসব লুক্কায়িত শত্রু আমাদের আত্মার ক্ষতিসাধন, আমাদের সধ্যে ঘৃণা সৃষ্টি ও আমাদের আচার-আচরণের অধঃপতন ঘটাতে কখনো বিরত থাকে না । আমাদেরকে নিজেদের পক্ষ থেকেও অন্যদের কাছ থেকে এমন সব কথা শুনতে হয় বা এমনসব কাজের সম্মুখীন হতে হয় যার সপক্ষে আমরা কোনো ন্যায়সঙ্গত ব্যাখ্যা উপলদ্ধি করি না। তথাপি যদি আমরা সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করি তা হলে আমরা দেখতে পাব যে এসব খারাপ স্মৃতিসমূহের দ্বারা গংঘটিত হয়েছে।’
*রাশদে শাখচিয়্যাত ।*

হীন স্বভাবের লোকেরা তাদের অন্যদের কাজের বিচারক নির্বাচন করে থাকে । এতে অন্যদের যাবতীয় অপকর্ম তাদের মধ্যে প্রতিফলিত হয় । হযরত আলী (রাঃ) এ সত্য তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন - বদকার লোকেরা কখনো অন্যের সঙ্গল চিন্তা করে না, কেননা তারা অন্যদের তাদের নিজেদের খারাপ আচরণের দৃষ্টিতে দেখে থাকে ।’
*গুরার আল হিকাম, পৃষ্ঠা ৮০।*

ডা. ম্যানের বক্তব্য এখানে উদ্ধৃত করা হলো- কিছু লোক অন্যদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ এনে তাদের দোষী সাব্যস্ত করতে চায় অথচ তারা নিজেরা ঠিক একই ধারনের আচরণ করে থাকে, নিজস্ব দুর্বলতা ঢাকা দেয়া ছাড়া ও একপ্রকার আত্মরক্ষা হিসেবে তারা এটা করে থাকে । এ আচরণকে দুশ্চিন্তা দূরীকরণের একটা পন্থা হিসেবে বর্ণিত হয়ে থাকে । অন্যকে নিজের সাথে তুলনা করা একটা প্রতিশোধমূলক কাজ । এ অবস্থা যত বেশি গভীর হতে থাকে এবং ব্যক্তির প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি পেতে থাকে, সে মানসিক রোগীদের পর্যায়ে পৌছে যায় । সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কিছু কাজ করার দ্বারা এ প্রতিরক্ষা তৈরি করা হয়, যা পরবর্তী পর্যায়ে অন্যদের সাথে সম্পর্কিত করার মনোভাব সৃষ্টি করে ।
*উসুলে রাভানশিনাচি ।*

Tuesday, June 12, 2012

ইসলাম বনাম হতাশা - ২

সন্দেহ প্রবন লোকেরা মানুষকে ভয় করে । যেমন হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন- ‘সন্দিগ্ধচিত্তের লোকেরা প্র্রত্যাশাকে ভয় করে।’
*গুরার আল হিকাম, পৃষ্ঠা-৭১২*

ডা. কার্ল এ সম্পর্কে লিখেছেন- ‘কতগুলো অভ্যাস, যেযমন মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করাও সন্দেহকারী ব্যক্তির বেঁচে থাকার যোগ্যতা হ্রাস করে । এসব নেতিবাচক আচরণের অভ্যাস মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক দয়ামায়ার সম্পর্ক ও দেহের লালাগ্রন্থির ওপর প্রতিকূল প্রভাব বিস্তার করে থাকে । এসব মানুষের দেহের বাস্তব ক্ষতিও সাধন কারতে পারে ।’
*রাহ ওয়া রাজম জিন্দাগি*

ডা. মার্ডিন আরো বলেছেন- ‘সন্দেহ স্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধন করে ও আচরণের শক্তিকে দুর্বল করে ফেলে । সামঞ্জস্যশীল আত্মার অধিকারীরা কখনো ক্ষতির আশংকা করে না । কেননা, তারা জানে যে ভালো হচ্ছে একটা শাশ্বত সত্য । এ জন্য তারা সর্বদা ভালোর প্রত্যাশা করে থাকে এবং তারা এটাও জানে যে ভারাপ একমাত্র ওইসব লোকেই করতে পারে, যাদের ভালো করার শক্তি অত্যন্ত দূর্বল, যেমনিভাবে আলোর অভাব হতেই অন্ধকারের উৎপত্তি হয়ে থাকে । এভাবে আলোর পথ অনুসরণ করো, কেননা এটা অন্তর থেকে অন্ধকার দূরীভূত করে থাকে ।’
*ফিরোজী ফিকর*

ডা. ফার্মার যা বলেছেন তা নিম্নরুপ-
’যারা প্রকাশ্যভাবে তাদের ধারণা বা মতামত প্রকাশ করতে ভয় পায়, যেখানে অন্যসব লোকেরা তাদের মতামত খোলাখুলি পেশ করছে এবং যারা প্রশস্ত রাস্তায় বা সরকারি পার্কসমূহে তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলে এবং পাশের রাস্তায় বা পেছনে গালিতে আশ্যয় গ্রহণ করে এসব লোক হতাশাগ্রন্ত, সন্দেহপ্রবণ ও ভীত ।’
 *রাজখুশবখতী ।*

সন্দেহ সৃষ্টিকারী উপাদানসমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে খারাপ স্মৃতিশক্তি যা মানুষের শক্তির মধ্যে লুকিয়ে থাকে । হযরত আলী (রাঃ) বলেছেনঃ- ‘মন্দ ধারণাকারী মানুষ মানুষের সাথে মন্দ আচরণ করে থাকে ।’
*গুরার আল হিকাম, পৃষ্ঠা-২৯।*

Monday, June 11, 2012

ইসলাম বনাম হতাশা-১

কালামে পাক অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে হতাশা ও কুচিন্তাকে পাপ ও মন্দকাজ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং মুসলমানদের পরস্পরের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা সম্পর্কে সতর্ক করেছে ।
‘হে ঈমানদারগণ! অধিকাংশ অমূলক ধারণা করা পরিহার করো, কেননা আন্দাজ অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিশ্চিতরুপে গুনাহের কাজ হিসেবে পরিগণিত । ’ *আল-কুরআন*

’ইসলাম ধর্ম সুনির্দিষ্ট সাক্ষ না পাওয়া পর্যন্ত সন্দেহকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে । আল্লাহর নবী (সঃ) বলেছেনঃ-
এক মুসলমনের জীবন, রক্ত ও সম্পদ অন্য মুসলমানের কাছে পবিত্র । এক মুসলমানকে অন্য মুসলমান সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা করা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।’
তিরমিজি,১৮ অধ্যায়, ইবনে মাজা, ২য় অধ্যায়, মুসলিম, ৩২ অধ্যায়, আহমদ্‌, ২য় খন্ড, ২৭৭ পৃষ্ঠা এবং ৩য় খন্ড, ৪৯১ পৃষ্ঠা ।
সুতরাং উপযুক্ত সাক্ষী ব্যতিরেকে একজনের সম্পত্তি অন্যকে হস্তান্তর করা যেমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনিভাবে সন্দেহাতীত প্রমাণ ব্যতিরেকে একজন মানুষকে কোনো অন্যায় কাজের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা বা সন্দেহ করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে । আমিরুল মোমেনিন (রাঃ) বলেছেন, ‘নিছক আন্দাজ অনুমানের ভিত্তিতে একজন বিশ্বস্ত লোকের বিচার করা ঠিক নয় ।’
*নাজ্জুল বালাগা, ১৭৪ পৃষ্ঠা*

অতপর তিনি সন্দেহজনক কাজের খারাপ ও দুঃখজনক ‍দিকসমূহ তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন । ‘সন্দেহ করার ব্যাপারে সতর্ক হও, কেননা সন্দেহ ইবাদত ধ্বংস করে এবয় গুনাহ বৃদ্ধি করে ।
*গুরার আল হিকাম, ১৪৫ পৃষ্ঠা ।*

এমনকি তিনি একজন দয়ালু ব্যক্তিকে অত্যাচারী হিসেবে সন্দেহ করার বিষয় বর্ণনা করেছেন ।
দয়ালু ব্যক্তিকে (সৎকর্মশীল) সন্দেহ করাকে তিনি নিকৃষ্ট পাপ ও কুৎসিত ধরনের বলে অভিহিত করেছেন ।
*গুরার আল হিকাম, ৪৩৪ পৃষ্ঠা ।*
তিনি আরো বলেছেন, তোমার প্রিয়জনকে সন্দেহ করার ফলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তা বিচ্ছিন্নতায় পর্যবসিত হয় ।  হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, ‘সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তি, বন্ধু ও প্রিয়জনের সঙ্গেও শান্তিতে থাকতে পারে না ।’
*গুরার আল হিকাম, ৬৯৮ পৃষ্ঠা ।*
হীন স্বভাবের লোকেরা তাদের অন্যদের কাজের বিচারক নির্বাচন করে থাকে । এতে অন্যদের যাবতীয় অপকর্ম তাদের মধ্যে প্রতিফলিত হয় । হযরত আলী (রাঃ) এ সত্য তুলে ধরতে ‍গিয়ে বলেছেন- ’বদকার লোকরা কখনো অন্যের মঙ্গল চিন্ত করে না, কেননা তারা অন্যদের তাদের নিজেদের খারাপ আচরণের দৃষ্টিতে দেখে থাকে ।’

সন্দেহপ্রবণতা, অন্যান্য ব্যক্তি ও সন্দেহকারীর নিজস্ব উৎসাহ উদ্দীপনা ও আচরণের ওপর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সন্দেহ কোনো কোনো সময় সন্দেহ কারীর ব্যক্তিদের সঠিক পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দুর্নীতি ও নীচতার দিকে পরিচালিত করে ।
ইমার আলী (রাঃ) বলেছেনঃ- ‘সন্দেহ কাজ কর্মকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে এরং মন্দ প্রবণতাকে উৎসাহ করে ।
*গুরার আল হিকাম, ৪৩৩ পৃষ্ঠা ।*

ডা. মার্ডিন বলেছেন, ‘কোনো কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা তাদের কর্মচারীদের চুরি করে বলে সন্দেহ করে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতি চুরি করার সন্দেহ তাদের চুরি করতে বাধ্য করে ।  যদিও সন্দেহ কথা ও কাজে প্রকাশ পায় না, তথাপি এটা সন্দেহভাজন ব্যক্তির মনোভাবকে প্রভাবিত করে এবং যে ব্যাপারে তাকে সন্দেহ করা হয়েছে সে কাজ করার দিকে তাকে পরিচালিত করে । হযরত আলী (রাঃ) সন্দেহ সম্পর্কে আরো বলেছেন- সঠিক না হলেও সন্দেহ পরিহার করো, নেনা এটা সুস্থকে রোগাক্রান্ত এবং নিরাপরাধীকে সেন্দেহপ্রবণ করে ।’
*গুরার আল হিকাম, ১৫২ পৃষ্ঠা ।*

তিনি আরো ঘোষণা করেছেন যে, সনেদহপ্রবণ লোকেরা সুস্থ দেহ ও উৎসাহ- উদ্দীপনা হতে বঞ্চিত। একজন সন্দিগ্ধচিত্ত মানুষ কখনো সল সুস্থ দেহের অধিকারী হতে পারে না ।
*গুরার আল হিকাম, ৮৩৫ পৃষ্ঠা ।*

Saturday, December 3, 2011

বন্ধু এবং ভালোবাসা

বন্ধু জীবনের অনেক গুরুত্ত পূর্ণ একটি জিনিস। তাই আমরা কখনো জেন একটি খারাপ বন্ধু কে বেছে না নেই।কারো সাথে বন্ধুত্তের সম্পর্ক গরার আগে তাকে দেখে নিতে হবে।এ বেপারে আমাদের সকলকে সাবধান থাকতে হবে।
তাই আমি সকলকে বলবো আমরা জেন কখনো বন্ধু ‍নির্বাচনে ভুল না করি।কারণ একজন ভালো বন্ধুই হতে পারে জীবনের পথ প্রদর্শক।তাই আমারে ’শ্রকান্ত আচার্যের’ গানের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে যে ‘’বন্ধু তোমার পথের সাথিকে চিনে নিও”।
আর এই বন্ধু সম্পর্কে পৃথিবীর অনেক মণীষী অনেক কথাই বলেছেন।অনেক বড় বড় কথা বলেছেন। যেমন =বেকন=
বন্ধু সম্পর্কে বলেছেন ”ভালোবাসা হচ্ছে লাল গোলাপের মত,কিন্তু বন্ধুত্য হচ্ছে ছায়াময়ী বৃক্ষের মত,জীবনের প্রতিদিনের প্রয়োজন,এবং বাস্তবতার মধ্যে তার সরল বিচরণ”।
অপর দিকে ভালোবাসা জিনিসটি সম্পুর্ণ আলাদা।বন্ধুত্য এবং ভালোবাসা কখনো এক হতে পারেনা।যারা ভাবে এক এটা তাদের ভূল ধারণা।ভালোবাসা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না,আর হলেও সেটা মজবুত হয়না।কখনো কখনো ছেলেরা এটাকে না বুঝে জরিয়ে যায়।হয়তোবা আবেগের জন্য।ভালোবাসা সম্পর্কে আমাদের কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন সবচেয়ে যথাযথ কথা। তিনি বলেছেন যে ‘’মেয়েলেোক অনর্থক হাসে,তাহা তেখিয়া অনেক পুরুষ অনর্থক কাদে।অনেক পুরুষ ছন্দ মিলাতে বসে এবং অনেক পুরুষ গলায় ‍দড়ি দিয়া মরে”। কথগুলো একেবারে বস্তবসম্পূর্ণ।তিনি হাজার বছর আগে এই বাণী করে গেলেও তা পুরোপুরি সত্য।
এই সম্পর্কে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন ‘’ভালোবাসা ‍দিয়ে যে ব্যক্তি ভালোবাসা পায় না।তার জীবন বড় কষ্টের এবং যাতনার।
এগুলো ছারাও আরো অনেক মহাকালের মহা মনীষীগণ বণী উল্লেখ করেছেন।আমাদের সকলের উচিৎ এগুলো জানা,এবং অপরকে জানিয়ে সাবধান করা।তাহরে আমাদের যুব সমাজ এগুলো থেকে রেহাই পাবে।




Tuesday, November 22, 2011

সুখ বনাম দু:খ
===========================================
পৃথিবিতে এ দুটি জিনিশ মানুশের শাথে অঙ্গা অিঙ্গক ভাবে জড়িত |
পৃথিবির অনেক বড় বড় মনিষি গন  দুঃখ ও সুখ নিয়ে অনেক কিছু উক্কি করেছেন |
যেমনঃ বহুল আলোচিত মণীষী স্পেণসার বোলেছেন যে
দূঃখ সহ্য করার মত ক্ষমতা যাদের আছে,টাদের কাছে দূঃখ বড় হয়ে দেখা দেয়না |

Sunday, November 20, 2011

আজ বাংলাদেশে বাংলা ব্লগ দিবস পালিত হলো |